গিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে এলএনজি ক্যারিয়ারের উপর জলদস্যুদের হামলা এবং একজন নাবিক অপহরণ

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০


নিজস্ব সংবাদদাতা: শনিবার নিরক্ষীয় গিনির মালাবোতে জলদস্যুরা মার্শাল ইজ (এমএইচ)পতাকাবাহী মিথেন প্রিন্সেস এলএনজি ক্যারিয়ারে আক্রমণ করে এবং জাহাজের একজন নাবিককে অপহরণ করে।
সুইস ফিনান্সিয়াল নিউজ আউটলেট এডব্লিউপি-এর খবরে বলা হয়, শনিবার ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে মালাবো থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সিকিউরিটি কনসালটেন্সি ড্রাইড গ্লোবাল জানায় যে মিথেন প্রিন্সেস সবেমাত্র লোড শেষ করে নোঙ্গর এ যাওয়ার সময় আক্রমণের শিকার হয়, এবং “জেটিতে” থাকা দুই ফিলিপিনো নবিককে জিম্মি করে। তাদের মধ্যে একজন জলদস্যুদের নৌকায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ও পালিয়ে যায়,পালিয়ে যাওয়া নবিক এতে আহত হয় বলে যানা যায়।আর অন্য একজন নবিককে জলদস্যুরা অপহরণ করে ফেলে।
এডব্লিউপি জানিায় যে,জলদস্যুরা টার্মিনাল অপারেটর ইজি এলএনজি দ্বারা নিযুক্ত একটি ক্রু মেম্বার এবং একটি নিরক্ষীয় গিনি জাতীয় নাগরিককে অপহরণ করে। এডাব্লুপি-র রিপোর্ট অনুযায়ী ইজি এলএনজি কর্মচারী পালিয়ে যান।
নিরক্ষীয় গিনি সরকার রবিবার এক বিবৃতিতে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এই ঘটনার অবস্থান নাইজের নদী ডেল্টার প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, গিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ জলদস্যু কর্ম গ্রুপের আবাসস্থল। অঞ্চলটি জলদস্যুতা, বিশেষত সামুদ্রিক অপহরণের জন্য বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে।
আইএমবি আইসিসির পাইরেসি রিপোর্টিং সেন্টার অনুসারে, গিনি উপসাগরে অপহরণের খবর পাওয়া যায় ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আইএমবি তার সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলেন যে, সুসজ্জিত জলদস্যুদের বড় দলটি সমুদ্রতীর থেকে আরও দূরেও অপহরণ করেছে।
বছরের প্রথম তিনটি চতুর্থাংশে ৮৫ জন সমুদ্রযাত্রী তাদের জাহাজ থেকে অপহরণ এবং বিশ্বব্যাপী মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ৮০ জনকে গিনি উপসাগরে নেওয়া হয়েছিল। নাইজেরিয়া, বেনিন, গ্যাবন, নিরক্ষীয় গিনি এবং ঘানাতে প্রকাশিত ১৪ টি পৃথক হামলায় এই অপহরণ ঘটেছিল।
উপকূলে থেকে আক্রমণে, মেশিনগান নিয়ে সজ্জিত আটটি জলদস্যু নাইজেরিয়ার বাইলেসার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৯৬ নটিক্যাল মাইল অবস্থান নিয়ে ১৭ জুলাই একটি পণ্য ট্যাঙ্কারে উঠেছিল। তারা ১৩ জন ক্রু সদস্যকে অপহরণ করে পালিয়ে যায়, যাদের মুক্তি পাওয়ার আগে একমাস ধরে রাখা হয়েছিল।